৫৫০০ বছরের প্রাচীন মধুর আবিষ্কার
জর্জিয়ার বোরজোমি অঞ্চলের সাকিরে গ্রামের কাছে প্রত্নতত্ত্ববিদরা আবিষ্কার করেছেন বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন মধু। এটি খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় সহস্রাব্দের, অর্থাৎ প্রায় ৫,৫০০ বছর পুরোনো। এক নারীর সমাধিতে পাওয়া তিনটি মাটির পাত্রে মধুর চিহ্ন ছিল, যা সম্ভবত মৃত্যু-পরবর্তী জীবনের খাদ্য হিসেবে রাখা হয়েছিল। এই মধু মিশরের তুতানখামেনের সমাধি থেকে পাওয়া মধুর চেয়ে প্রায় ২,০০০ বছর বেশি প্রাচীন। এতে লিন্ডেন ও বন্যফুলের পরাগাণের নিদর্শন পাওয়া গেছে, যা প্রাচীন মানুষের মৌচাষ ও প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের প্রমাণ।এককথায়, এই মধু শুধু খাদ্য নয়, সভ্যতার প্রথম মিষ্টি স্মৃতিগুলোর এক অনবদ্য নিদর্শন।

৫৫০০ বছরের প্রাচীন মধুর আবিষ্কার © wikipedia
প্রাচীন মিশরে মাংস বিতরণের অভিনব প্রথা
প্রাচীন মিশরীয়রা গ্রাম বা শহরের এলাকায় বসবাস করা দরিদ্র মানুষদের বিভিন্ন সময় গরু বা ভেড়া জবাই করে গোস্ত বিতরণ করতো l কসাইরা গরু বা ভেড়া জবাই করার আগে তার গলায় ঘণ্টা ঝুলিয়ে ওদের নিয়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়াতো l তাদের উদ্দেশ্য ছিল শহরের সবাই যেন ঘণ্টার আওয়াজ শুনে জানতে পারে মিশরীয় উচ্চবিত্তরা গরীবদের জন্য নৈবেদ্যর ব্যবস্থা করছে l গরুর গলায় ঘণ্টা ঝুলিয়ে তাকে সাথে নিয়ে রাস্তায় ঘুরে ঘুরে সকলকে দাওয়াত করার এই ছিল এক অভিনব পদ্ধতি l গরুর ভাল গোশত খাবার আগ্রহ মিশরীয় সমাজে যথেষ্ট ছিল l এই প্রথা হাজার হাজার বছর ধরে মিশরে চলে আসছে l মজার বিষয় হলো, আমরা কিন্তু আজও গরুর গলায় ঘন্টা দেখতে পাই l গরুর গলায় ঘণ্টা বাধার এই প্রথা যুগ যুগ ধরে বিশ্বের বিভিন্ন কোণায় চালু ছিল বলে মনে হচ্ছে l

মিশরে মাংস বিতরণ
প্রাচীন মিশরের রুটি ও খাদ্যসংস্কৃতি
প্রাচীন মিশরীয়দের প্রধান খাদ্য ছিল গমের তৈরি রুটি l বিয়ার তৈরির ক্ষেত্রেও প্রধান উপকণ হিসাবে গমকে ব্যবহার করা হয়। মিশরের মানুষদের কাছে কৃষি কাজ ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ l সমাধির দেয়ালে প্রায়শই এই কৃষি কাজ গুলোকে সুন্দর করে তারা চিত্রিত করে রাখতো l পরবর্তীকলে মিশর যখন রোমান সাম্রাজ্যের অংশ হলো তখন এই মিশরে উৎপাদিত পণ্য রোমের খাবার এর সকল চাহিদা পূরণ করত। বেশিরভাগ মিশরীয় রুটি গম থেকে তৈরি হতো l তবে স্বাদ আনার জন্য তারা বিভিন্ন ধরণের উপাদান যুক্ত করে রুটিকে মজাদার বানাতো l লম্বা ,মোচাকার , বৃত্তাকার বা তিনকোনাকার ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের রুটি তারা বানাতো l অনেক রকমের ও বিভিন্ন আকারের রুটি বানিয়ে মিশরীয়রা কবরের মধ্যে রেখে দিত l মৃত ব্যক্তির পরবর্তী জীবনের জন্য রুটিগুলি এক অপরিহার্য অংশ ছিল। এ গুলো খেয়ে মৃত ব্যক্তি পরবর্তী জীবনের জন্য প্রস্তুত হতো l তাই তারা খুব যত্ন করে রুটি বানিয়ে মৃত ব্যক্তির সাথে কবরের মধ্যে রাখতো l নিচের এই রুটি তার এক উদাহরণ l এটি লন্ডন জাদুঘর এ সংগ্রহিত আছে l আমরা এখন প্রায় ৩ হাজার বছরের পুরানো এক রুটি চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি।

প্রাচীন শিলালিপিতে রুটি হাতে ধরা এক সেবিকার চিত্র © metmuseum
Ramesses II-এর মূর্তির রহস্য
এই হল মিশরে আবু সিম্বেলের মন্দিরে ফারাও দ্বিতীয় রামসেস’এর বিখ্যাত সেই বিশালকার মূর্তি যা আজও ঐতিহাসিকদের মনে বিস্ময়ের উদ্রেক ঘটায়। তবে এই বিশেষ ছবির বিখ্যাত অথবা কুখ্যাত হবার কারণ একটু আলাদা। ১৮৬৫ সালে তোলা এই ছবিতে একজন কালো চামড়ার স্থানীয় মিশরীয় মানুষকে দেখা যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে দেখলে মনে হবে সেও বোধহয় মূর্তির এই বিশালত্ব দেখে বিমূঢ় হয়ে সেই দিকে চেয়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তেমনই ধারণা ছিল সকলের। ১৯৯২ সালে একদা সাদা-কালো এই ছবিটি প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে রঙিন করা হয়। আর তারপর ভালো করে খুঁটিয়ে দেখে এই ছবির আলাদা একটা গুরুত্ব বুঝতে পারেন ঐতিহাসিকরা। খুব সামনে থেকে দেখলে বোঝা যায় ফারাও দ্বিতীয় রামসেস’এর মূর্তির বুকের কাছে ইংরেজি হরফে লেখা রয়েছে একটি শব্দ। আসলে এটি একটি নাম। নৃশংস এক ইংরেজ প্রভুর লাস্ট নেম, ‘Brown’।

আবু সিম্বেল-এর ঐতিহাসিক ছবি, © alamy
ফারাও’এর শরীরে ইংরেজি নাম! চোখে পড়ার পরই ব্যাপারটা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। ঐতিহাসিকদের আশ্চর্য করে দিয়ে সত্য সামনে আসে কয়েক বছরের মধ্যেই। জানা যায় ১৮৬৫ সালে স্থানীয় এক মিশরীয় শ্রমিক তার ইংরেজ প্রভুর হুকুমে প্রাণ হাতে নিয়ে চড়েছিল ফারাও’এর সেই বিশালকার মূর্তির ওপর। তারপর নির্দেশ মতন সে লিখেছিলো পাঁচটি ইংরেজি অক্ষর। নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে সেই অক্ষরজ্ঞানহীন শ্রমিক মূর্তির শরীরে কি লেখেছিলো তা বোধহয় সে নিজেও জানতো না। এই কাজ করতে গিয়ে সেই উচ্চতা থেকে পড়ে মৃত্যুও হতে পারতো মিশরীয় শ্রমিকটির। সেই সাহসী মিশরীয় শ্রমিকের আশ্চর্য কীর্তির ছবি দূর থেকে তুলেছিলেন তার ইংরেজ প্রভু। ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত এই বিখ্যাত ছবি সেই নৃশংস প্রভু হার্পার ব্রাউন’এর নামের শোভা বাড়িয়ে এসেছে। ১৯৯৭ সালে আসল সত্য সামনে এলেও সেই দুঃসাহসী মিশরীয় শ্রমিকের নাম আজও জানা যায়নি।
রহস্যময় ‘বশিরি’ মমি
আজ অবধি খুঁজে পাওয়া একমাত্র মমি যাকে আনৱ্যাপ করার চেষ্টা বিজ্ঞানীরা করেনি। প্রথম থেকেই এই মমিটির ওপর থেকে লিনেন অপসারণ করতে অস্বীকার করেছিলেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। কারণ হিসেবে এর অত্যন্ত নিখুঁত সংরক্ষণের কথা বলেছিলেন তারা। আসলে সমগ্র বিশ্বে এমন কোনও মানুষ বা প্রযুক্তি নেই যা আনৱ্যাপ করার পর কোনো মমিকে আগের মতো অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে পারে। ১৯১৯ সালে মিশরের ভ্যালি অফ দ্য কিংস’এ , বিখ্যাত মিশরবিদ হাওয়ার্ড কার্টার “বশিরি” নামক এই মমিটি আবিষ্কার করেছিলেন। এর সংরক্ষণ এতটাই নিখুঁত ছিল যে কার্টার সাহেব নিজেও এটি নিয়ে বিশেষ কাজ করেননি। পরবর্তীকালে বাইরে থেকে স্ক্যান করে দেখা যায় ভেতরেও মমিটি একেবারে ইনট্যাক্ট রয়েছে। আর ঠিক এই কারণেই আজও প্রত্নতাত্ত্বিকরা একে আনৱ্যাপ করার অর্থাৎ শরীরের ওপর থেকে লিনেন সরিয়ে ফেলার দুঃসাহস দেখাননি। এটি একটি ব্যতিক্রম হয়েই রয়েছে।

বশিরির মমি © wikipedia

