শ্রীপুরের জমিদার বাড়ি ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বৌঠাকুরানীর হাট, Stay Curioussis

শ্রীপুর জমিদার বাড়ি বাংলাদেশের মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলায় রয়েছে এক ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি । এই জমিদার বাড়ি নিয়েই বিশ্ব কবি রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর রচনা করেছিলেন “বৌঠাকুরানীর হাট” উপন্যাসটি ।  পনেরশো শতাব্দী পর্যন্ত এখানকার জমিদারী ছিল নবাব আলীবর্দী খাঁর আওতায়। পরে নবাব আলীবর্দী খাঁর কাছ থেকে এ অঞ্চলের জমিদারি কিনে নেন সারদা রঞ্জন পাল চৌধুরী। এখানে তিনি তার জমিদারি প্রতিষ্ঠা করেন। শ্রীপুর ও তার আশেপাশের এলাকা তার জমিদারির আওতাধীন ছিল। যশোরের প্রভাবশালী মহারাজা বাংলার বারো ভূঁইয়ার অন্যতম রাজা প্রতাপাদিত্যের ছেলে উদয়াদিত্যের সঙ্গে বিয়ে হয় সারদা রঞ্জন পালের মেয়ে বিভা রানী পালের। তখন প্রতাপাদিত্যের সহযোগিতায় সারদা রঞ্জন তৈরি করেন এই জমিদার বাড়ি।

শ্রীপুরের জমিদার বাড়ি ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বৌঠাকুরানীর হাট, Stay Curioussis

শ্রীপুর জমিদার বাড়ি

জমিদার বাড়িটি সম্পর্কে জনশ্রুতি রয়েছে। বলা হয়ে থাকে, এ বিভা রানী পাল’কে কেন্দ্র করে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘বৌঠাকুরানীর হাট’ উপন্যাস রচনা করেন। এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র যার নাম সুরমা, সেটি বিভা রানী পালেরই প্রতিচ্ছবি। আর সেই বিভা রানী পাল বা সুরমার স্মৃতিবিজড়িত জমিদার বাড়িটি কালের বিবর্তনে এখন প্রায় ভেঙ্গে পড়েছে। এই ভগ্নপ্রায় বিশাল জমিদার বাড়িটির প্রতিটি ইট- কাঠের পরতে পরতে লুকিয়ে আছে সেই সময়ের ইতিহাস। একসময় এটি ছিল বিশাল প্রাসাদতুল্য দৃষ্টি নন্দন বাড়ি। এখন এর সিংহদরজা ভাঙ্গাচোরা অবস্থায় পৌঁছেছে। ১৮৫৯ সালের জরীপ অনুযায়ী শ্রীপুর উপজেলা মাগুরা জেলার মধ্যে সবচেয়ে ছোট উপজেলা। শ্রীপুর নাম কেমন করে হলো সেটা সঠিক ভাবে জানা যায়নি, তবে জনশ্রুতি আছে যে নবম শতাব্দিতে পাল রাজার শাসন আমলে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নগর ছিল। এককালে শ্রীপুর অঞ্চলে বিরাট নামে এক রাজার শাসন ছিল, আসলে তার নাম ছিল রাজা রাম চন্দ্র। তার স্ত্রীর নাম ছিল শ্রীদেবী, শ্রীদেবীর নাম অনুসারে এই উপজেলার নাম রাখা হয় শ্রীপুর।

শ্রীপুরে জমিদার বাড়ি ছাড়াও আরো কয়েকটি দর্শনীয় স্থান আছে————- কাদিরপাড়া জমিদার বাড়ি কবি কাজী কাদের নেওয়াজের বাড়ি মুসলিম রেনেসাঁসের কবি ফররুখ আহমদের বাড়ি ওস্তাদ মুনশী রইস উদ্দীনের বাড়ি।

তথ্যসূত্র 

উইকিপিডিয়া 

ইন্টারনেটট