রোমান অভিজাতরা চীনা রেশমের জন্যে রাজ্যের স্বর্ণভান্ডার প্রায় নিঃশেষ করে ফেলে। সম্রাট টাইবেরিয়াস বাধ্য হয়ে সিল্কের ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। আর রোমান সাম্রাজ্যও দ্বিতীয় খ্রীষ্টীয় শতকে ইরান ও মধ্য এশিয়ার মাধ্যমে যুক্ত হয় চীনের বাণিজ্যপথের সাথে। ইউরোপ থেকে যেত সোনা আর চীন থেকে রেশম। আর আজকের ট্রেড ওয়ারের শুরুও এই সময়ে। চীনও রেশমের গোপন প্রস্তুতপ্রণালী আগলে রেখেছিল, যাতে রোম সাম্রাজ্যের কারিগররা প্রতিযোগিতায় আবির্ভূত না হয়।
veni vidi vici, যার অর্থ আমি এলাম, দেখলাম, জয় করলাম।
সিজার খ্রিস্টপূর্ব ৪৭ সালে পন্টাস রাজ্যে অভিযান পরিচালনা করেন। রাজা দ্বিতীয় ফার্নাসিসের সাথে জেলা শহরের মুখোমুখি হয় সিজারের নেতৃত্বাধীন রোমান বাহিনী। জেলা সেসময় ছিল দুর্ভেদ্য দুর্গগুলোর মধ্যে একটি। কিন্তু সিজারের বাহিনীর ক্ষিপ্রতা ও আক্রমণের দ্রুততায় খুব সহজেই জেলার পতন ঘটে। এই শহর জয়ের দ্রুততায় সিজার ল্যাটিন ভাষায় বলে উঠেছিলেন, “veni vidi vici”, যার অর্থ “আমি এলাম, দেখলাম, জয় করলাম।” তার এই উক্তিটি আজও আগ্রাসী মনোভাবের জন্য বেশ জনপ্রিয়। এই উক্তির দ্বারাই সিজারের সামরিক সাফল্য সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যায়।

জুলিয়াস সিজার
সিজার তার সামরিক জীবনের প্রত্যেকটি যুদ্ধেই ছিলেন দুর্ধর্ষ একজন সেনাপতি। একের পর এক শহর তিনি জয় করে নিয়েছিলেন ব্যাপক আধিপত্যের সাথে। যেদিকেই চোখ রেখেছেন সেদিকই লুটিয়ে পড়েছে তার পদতলে। তিনি তো ছিলেন দিগ্বিজয়ী এক সেনাপতি, যার পদতলে দলিত হয়েছিল গলের মতো বিশাল সাম্রাজ্য, যিনি প্রথমবারের মতো পা রেখেছিলেন ব্রিটেনের মাটিতে, যার অধিকারে এসেছিল জার্মানি ও মিশরের মতো দেশগুলো।
চারটি রাজা নিয়ে এক রাজত্ব। ‘কিং অব স্পেডস’, ‘কিং অব ক্লাবস’ ‘কিং অব ডায়মন্ডস’ এবং ‘কিং অব হার্টস’। শোনা যায় তাসের ঘরের এই চার রাজার প্রতীক প্রাচীনকালের চার মহান রাজাকেই প্রতিনিধিত্ব করে। কিন্তু কখনও খেয়াল করে দেখেছেন কি? এরমধ্যে একটি রাজারই কেবল গোঁফ নেই! কিং অব স্পেডস এ যার ছবি রয়েছে, মনে করা হয় তিনি ইজরায়েলের রাজা ডেভিড। কিং অব ক্লাবস এ যার ছবি রয়েছে তিনি ম্যাসিডোনিয়ার রাজা সিকন্দর দ্য গ্রেট। কিং অব ডায়মন্ডস কার্ডে যে রাজার ছবি রয়েছে, মনে করা হয় তিনি রোম সম্রাট অগাস্টাস সিজার এবং কিং অব হার্টস এ যে ছবি রয়েছে, তিনি ফ্যাঙ্ক রাজা শার্লেম্যান। এই শার্লেম্যানের গোঁফটিই কেন নেই সেটিই জানবো এবারে।

সম্রাট টাইবেরিয়াস; Image Source: Ancient Origins
চার কার্ডে এই চার ধরনের প্রতীক প্রথম ব্যবহার শুরু হয় ষোড়শ শতকে। এক ফরাসি ব্যক্তি এই প্রতীকের ব্যবহার শুরু করেন। দ্য গার্ডিয়ান এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ষোড়শ শতকে তাসের ৫২টি কার্ডের যখন নকশা করা হচ্ছিল, তখন ভুলবশত কিং অব হার্টস এর ছবিতে রাজার গোঁফ দিতে ভুলে গিয়েছিলেন শিল্পী। তার পর থেকে ভালোবাসার রাজা চলছেন গোঁফ ছাড়াই। ছবিটি আর বদল না করার পেছনেও নাকি রয়েছে আরেক কাহিনি। অষ্টাদশ শতকের শেষে তাসের কার্ডের পুনর্নকশা করা হয়। তখনও ভালোবাসার রাজার নাকের নিচে জোড়া লাগেনি গোঁফ। এর কারণ হিসাবে প্রচলিত রয়েছে, ফ্যাঙ্কদের রাজা শার্লেম্যান নাকি দেখতে খুব সুন্দর ছিলেন। নিজের রূপের আলাদা পরিচিতির জন্য তিনি নাকি গোঁফ কেটেও ফেলেছিলেন। এই কারণেই নাকি শেষ পর্যন্ত সম্রাট শার্লেম্যানের প্রতীক হিসাবে ‘কিং অব হার্টস’ এর ছবিতে গোঁফ জোড়েননি সেই শিল্পী।
সিল্ক রোডের প্রধান পথগুলো © wikipedia
ক্যালিগুলা সিজারের আসল নাম ছিল গায়াস জুলিয়াস সিজার জার্মানিকাস। জুলিয়াস সিজার ছিলেন ক্যালিগুলার মহা-মহা-পিতামহ। ১২ খ্রিস্টাব্দের ৩১ আগস্ট রোমের সিজার ক্লডিয়ান পরিবারের নতুন সদস্য হিসেবে জন্ম নেন গায়াস সিজার। এই গায়াস সিজার পরবর্তীতে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম পাকাপাকিভাবে লিখিয়ে নেন রোমের ইতিহাসে এক অদ্ভুত শাসক হিসেবে। তিনি ছিলেন তার বাবা মহান জার্মানিকাস এবং মা আগ্রিপিনার ছয় সন্তানের মাঝে তৃতীয়। তিনি যখন জন্ম নেন তখন রোমের সম্রাট ছিলেন তার মহা পিতামহ অগাস্টাস সিজার। তার বাবা জার্মানিকাস ছিলেন রোমান সাম্রাজ্যের জনপ্রিয় সেনাপতি। তাকে রোমের সাধারণ জনগণ মনেপ্রাণে ভালোবাসতো। জার্মানিকাস রোমান সেনাবাহিনী নিয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে অভিযানে বের হতেন। তার সাথে থাকতেন তিন বছর বয়সী শিশু ক্যালিগুলা। জার্মানিকাস আদর করে ছেলের জন্যে সেনাবাহিনীর পোশাক বানিয়ে দেন। পায়ে পরিয়ে দেন ‘ক্যালিগা’ মানে ছোট বুট জুতা। ক্যালিগা পায়ে সৈন্যদের মাঝে গায়াস সিজারের ছুটোছুটি ছিল বেশ পরিচিত দৃশ্য। এই ক্যালিগা থেকেই তাকে ধীরে ধীরে সবাই ক্যালিগুলা ডাকতে থাকে। যা পরবর্তীতে তার প্রচলিত ডাক নামে পরিণত হয়।

