আজ তাদের পরিবারের একজন গুরুত্বপূর্ণ আত্মীয় মৃত্যুবরণ করেছেন। প্রিয়জন তো চলে গেছেন, কিন্তু তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অটুট। সেই ভালোবাসা থেকেই মৃতের দেহ সংরক্ষণের জন্য বিশেষ প্রস্তুতি চলতে থাকে।
কাঁদা মাটি, খড় ও কাঠ ব্যবহার করে মৃতের মুখ ও শরীরের আকৃতিতে একটি খোলস বানানো হতো। প্রতিটি সমাধির উচ্চতা প্রায় ২.৫০ মিটার। এরপর মমি করা দেহাবশেষ সেই কাঠামোর মধ্যে স্থাপন করা হতো। তাদের বিশ্বাস ছিল, মৃত পূর্বপুরুষ জীবিতদের রক্ষা করবেন এবং উত্তরসূরীদের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখবেন।
দুর্গম পাহাড়ে সমাধি নির্মাণ
প্রিয়জনের সমাধি যেন শত্রুর হাতে না পড়ে, তাই চাচাপোয়ারা দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল বেছে নেন। খাদের ধারে গুহার মতো জায়গায় কফিনগুলো রাখা হতো। ফলে ঝড়-বৃষ্টি বা ধ্বংসযজ্ঞেও এগুলো অক্ষত থাকত।

কারাজিয়া সমাধি: চাচাপোয়া সভ্যতার প্রাচীন মমির নিদর্শন © Wikimedia
কারাজিয়া সমাধি আবিষ্কার
৬০০ বছর পর, ১৯৫৩ সালে স্থানীয়রা প্রথম এই সমাধিগুলো খুঁজে পান। পরে ১৯৭৯ সালে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা সেখানে পৌঁছে প্রায় অক্ষত কফিন দেখে বিস্মিত হন।
এই আবিষ্কার পেরুর আমাজনের উটকুবাম্বা উপত্যকার চাচাপোয়া সভ্যতার নিদর্শন। বর্তমানে এগুলোকে কারাজিয়া সমাধি (Karajia Tombs / Karajia Sarcophagi) নামে চেনে।
চাচাপোয়া: “মেঘের যোদ্ধা”
চাচাপোয়া জনগোষ্ঠীকে “মেঘের যোদ্ধা” (Warriors of the Clouds) বলা হতো। তারা মৃতদের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল ছিলেন এবং বিশ্বাস করতেন মৃত্যু মানেই সমাপ্তি নয়, বরং আত্মা জীবিত থেকে বংশধরদের রক্ষা করে।
সমাধিগুলোতে ব্যবহৃত খড়, কাঁদামাটি ও কাঠের ভেতর আজও দেখা যায় লাল-সাদা রঙের জ্যামিতিক নকশা। এগুলো তাদের শিল্পকৌশল ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের প্রতীক।