“লাল কিলা কি এক ঝলক”
“লাল কিলা কি এক ঝলক”-এর লেখক ছিলেন সৈয়দ নাসির নাজির। তিনি ১৮৬৫ সালের ১৬ আগস্ট দিল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা হয়েছিল তাঁর বাবার কাছেই। ছোটবেলা থেকেই তাঁর ইচ্ছে ছিল বড় হয়ে একজন
চিকিৎসক হবেন। পরবর্তীতে তিনি সত্যিই একজন চিকিৎসক হন। তাঁরই একটি বিখ্যাত লেখা “লাল কিলা কি এক ঝলক” নিয়ে আমরা আজ একটি গল্প বলব।
এই বইটিতে তিনি রাজপ্রাসাদের অভ্যন্তরের নানা ধরনের গল্প তুলে ধরেছেন। সে সময়ে বন্নি খানম নামে একজন মহিলা রান্নাঘরের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। এই বইয়ে তাঁরই স্মৃতিগুলো ৭৬টি গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। গল্পগুলো বেশ মজার, তাই আমরা এখান থেকে একটি ঘটনা আলোচনা করছি।
গল্পটি মূলত
মুঘল মহিলাদের সাহস ও বুদ্ধিমত্তাকে ঘিরে। দিল্লির শাহজাহানাবাদে নকশিবন্দি সুফিদের দুটি প্রধান কেন্দ্র ছিল, মির্জা জানে জানান-এর খানকাহ এবং খাজা মির দরদের বারাদারি। এই পীরদের কারণে তুর্কোমানিয়া থেকে বহু মানুষ শাহজাহানাবাদে এসে বসবাস শুরু করেছিল। তাঁদের অনেক অনুসারীও এই শহরে থাকত। এদের মধ্যে মধ্য এশিয়া থেকে আসা কিছু ভাড়াটে সৈন্যও ছিল, যারা মুঘল সেনাবাহিনীতে কাজ করত। তাদের স্ত্রীদেরই সাধারণত “মুঘল রানী” বলা হত। এই নারীরা ছিলেন অত্যন্ত সাহসী। তাঁদের স্বামীরা যখন দক্ষিণে অভিযানে যেতেন, তখন এই নারীরাই ঘরবাড়ি ও পরিবার সামলে রাখতেন।

পুরানো দিল্লিতে মুঘল আমলের 17 শতকের একটি বাড়ি। ©theprint.in
একদিন লেখক তাঁর পীরের সঙ্গে দেখা করতে বারাদারিতে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে তিনি মুঘলপুরার প্রায় ৫০ জন নারী ও শিশুকে দেখতে পেলেন। তখন প্রশ্ন করা হলো, এখন তো কোনো বিয়ে বা উরস নেই, তবু এতগুলো মুঘল নারী এখানে কেন এসেছে?
উত্তরে বেগম সাহেবা বললেন, “ওরা খুব বিপদে পড়েছে। তাই ভয়ে বাড়ি ছেড়ে এখানে আশ্রয় নিতে এসেছে। ১২ থেকে ৫০ বছরের সব পুরুষই সম্রাটের সঙ্গে দাক্ষিণাত্যের অভিযানে গেছে। ফলে ঘরে শুধু নারী ও শিশু রয়েছে।”
আট দিন আগে এক ভিখারি ভিক্ষা চাইতে এসেছিল। তখন এক দাসী তাকে ভিক্ষা দেওয়ার সময় অসাবধানতাবশত অনেক কথা বলে ফেলে। সে জানিয়ে দেয় যে এই মহল্লার প্রায় ২০টি মুঘল পরিবারের পুরুষেরা সবাই অভিযানে গেছে, ঘরে কোনো পুরুষ নেই, কিন্তু তারা সবাই খুব ধনী, তাদের ঘরে প্রচুর টাকা-পয়সা ও মূল্যবান জিনিসপত্র রয়েছে।
ভিখারি গল্প শুনে চলে যায়। পরে দাসী আবার এই কথাগুলো মুঘল রানীদেরও বলে। কথাটা শুনে তারা ভীষণ রেগে যায়। তারা দাসীকে বলে, অপরিচিত লোকের কাছে এমন খবর দেওয়া খুবই বিপজ্জনক। তারা বুঝতে পারে, যদি ভিখারি দুষ্ট লোক হয়, তবে সে নিশ্চয়ই রাতে ডাকাত নিয়ে আসবে।
ভয়ে সবাই একত্র হয়ে ঠিক করল, রাতে তারা পুরুষদের পোশাক পরে স্বামীদের অস্ত্র হাতে নিয়ে ছাদের ওপর পাহারা দেবে। সেই রাতেই তারা তলোয়ার ও বন্দুক হাতে পুরুষ সেজে পাহারা দিল। সারা রাত এভাবেই কেটে গেল, কিন্তু কোনো বিপদ ঘটল না।