আমাদের সবারই কম-বেশী জানা আছে যে, ইংরেজরা ব্রিটিশ-ভারতে কৃষকদের বাধ্য করেছিলো নীল চাষে। নীল চাষ কৃষকদের জন্য একেবারেই লাভজনক ছিল না, বরঞ্চ এই চাষ ধীরে ধীরে জমিগুলোকে করেছিল খাদ্যশষ্য ফলনের জন্য অনুপযুক্ত এবং অনুর্বর। শুধুমাত্র নীল চাষে কৃষকদের বাধ্য করেই ক্ষ্যান্ত হয় নি, ইংরেজরা ভারতবর্ষের কৃষকদের বাধ্য করেছিল আরেকটি ধ্বংসকারী শস্য চাষে। আর সেটি ছিল আফিম পপি (poppy), সহজভাবে বলা হয় আফিম চাষ! জোরপূর্বক এ আফিম চাষ ছিল ইংরেজদের একটি অন্যায়। এ অন্যায় কাজটি কৃষকদের করানো হতো ব্রিটিশ সরকারের আরেকটি মহা-অন্যায়ের জন্য। সেই কর্মটি ছিল অন্য দেশে আফিম স্মাগলিং বা চোরাকারবারী করা। ভাবা যায়? এক অন্যায় করা হতো আরেকটি অন্যায়কে বাস্তবায়ন করতে! আজ দেখবো ইংরেজদের দশকের পর দশক ভারতবর্ষে সেই অন্যায়ের মহোৎসবের এক চিত্র!

পপি চাষ; Image source: Wikimedia

বিশ্বে আফিমের প্রথম ব্যবহারের প্রমান মেলে খ্রীষ্টপূর্ব ৩,৪০০ সনে যখন আফিম পপির চাষ হতো দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়াতে। সুমেরীয়রা এটিকে “আনন্দ উদ্ভিদ” নামে ডাকতো। সেখান থেকে আফিম আস্তে আস্তে ছড়িয়ে পরে অন্য দেশে। আজকের হেরোইন সেবনের দীর্ঘ যাত্রা কিন্তু শুরু হয় সেই সময়ের পপির বীজ রোপণের মধ্য দিয়ে। আফিম প্রধানত বিশ্বের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছোট ছোট জমিতে দরিদ্র কৃষকরা চাষাবাদ করে থাকে। বিশ্ব জুড়ে আফিমের শক্তি সম্পর্কে মানুষ জানতে পারে এবং এর চাহিদাও বেড়ে যায় অনেক গুন। প্রাচীন কাল থেকে শুধু নেশার জন্যই আফিম সেবন হতো না, অনেক রোগ নিরাময় এবং ঔষধে আফিম ব্যবহার হয়ে আসছে। আফিম চাষ এবং সেবন সিল্ক রোড জুড়ে ভূমধ্যসাগর থেকে এশিয়া এবং অবশেষে চীন পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। সিল্ক রোড দিয়ে সরবরাহকৃত বাণিজ্যিক পণ্যগুলোর মধ্যে আফিম ছিল অন্যতম। আফিমের বেশিরভাগ চাষাবাদ হয় পাকিস্তান, আফগানিস্তান, বার্মা, তুরস্ক হয়ে মধ্য এশিয়া জুড়ে বিস্তৃত এলাকা।

আঠারো শতাব্দীর গোড়ায় পর্তুগীজরা প্রথমে ভারতবর্ষ থেকে আফিম আমদানী করে তা’ রফতানী করা শুরু করে চীনে। ব্রিটিশরা আফিম বাণিজ্যের সন্ধান পায় পর্তুগীজদের কাছ থেকেই। ভারতবর্ষের বাংলায় ছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর এই আফিম ব্যবসার প্রধান কেন্দ্রস্থল। ইউরোপে চীনে উৎপাদিত চা এবং অন্যান্য দ্রব্য সামগ্রীর ক্রমবর্ধমান চাহিদা মিটাতে ব্রিটেন তাদের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর মাধ্যমে ভারতবর্ষে উৎপাদিত আফিমকে চীনে পাচার শুরু করে। এর ফলে চীনে নেশার হার বেড়ে যায় আশঙ্কাজনকভাবে। ব্রিটিশ সরকার এক রাষ্ট্রীয় সনদের মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীকে এশিয়ার সাথে আফিম ব্যবসা করার একচেটিয়া অধিকার দেয়। ভারতবর্ষের আফিম বাণিজ্যটি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে ছিল। তাদের “আফিম এজেন্সী” অফিসের ১০০ শাখায় আড়াই হাজার কর্মচারী নিয়োগ ছিল। এ অফিসের মূল কাজ ছিল আফিম চাষীদেরকে নজরদারী করা, চাষীরা কোম্পানীর অসম চুক্তি যাতে লংঘন করতে না পারে সে দিকে কঠোর নজর রাখা।
কোম্পানীর বিশাল পরিমানের আফিম উৎপাদনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল লক্ষ লক্ষ ভারতীয়দের উপর। আফিম কৃষকদের দেয়া হতো সুদমুক্ত ঋণ। কিন্তু এই সহজ ঋণ প্রাপ্তির সুবিধা কৃষকদের তেমন উপকারে আসতো না। আফিম চাষের জন্য সারের, সেচের, এবং মজুরের খরচ ছিল কৃষকের আফিম থেকে মোট আয়ের অনেক বেশী। উপরন্তু, কৃষকের মাথায় চেপে বসেছিল আফিম উৎপাদনের কঠিন চুক্তিপত্র, যা’ থেকে তাদের বের হবার কোনো উপায় ছিল না। কৃষকের কোনো অধিকার ছিল না আফিম ছাড়া অন্য শস্য উৎপাদন করার। আফিমের এজেন্সীগুলোই কৃষককে নির্ধারিত করে দিতো উৎপাদন মাত্রা। কৃষক যদি আফিম চাষে অস্বীকৃতি জানায়, তাকে যেতে হতো জেলে অথবা ভোগ করতে হতো নির্যাতন। এটা এখনও এক বিস্ময়, কি করে মাত্র আড়াই হাজার কর্মচারী লক্ষ লক্ষ কৃষককে বাধ্য করেছিল আফিম চাষে।
ব্রিটিশ শাসনামলে ভারতের উত্তর প্রদেশে প্রায় ১৩ লক্ষ চাষী পপির আবাদ করতো। বিশেষ করে উনিশ শতকের শেষের দিকে ভারতের উত্তর প্রদেশ, বাংলা এবং বিহারের প্রায় এক কোটি লোকের জীবনের উপর এর বিরূপ প্রভাব পড়ে। অনেকে যুক্তি দেখায় যে, ভারতবর্ষে আফিম চাষ দরিদ্র কৃষকের অবস্থার অনেক উন্নতি করেছিল। কিন্তু সম্প্রতি ড. বাউয়ের (Bauer) তার গবেষণায় বের করেছেন যে, আফিম চাষ ভারতবর্ষের চাষীদের করেছে আরো দরিদ্র, আবাদী জমি ধ্বংস করেছে হাজার হাজার একর।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর আফিম ব্যবসাটি আদতে ছিল ভারতবর্ষকে ব্যবহার করে ব্রিটিশ সরকার পরিচালিত একটি বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য। ভারতবর্ষে ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসকের আফিম ব্যবসা ছিল দ্বিতীয় বৃহত্তর আয়ের উৎস। ভারতবর্ষ তখন ছিল বিশ্বের ঔষধ প্রস্তুতকারী কোম্পানীগুলোর সর্ববৃহৎ আফিম সরবরাহকারী। ভারতে ব্রিটিশ সরকারের কারখানা থেকে হাজার হাজার টন উৎপাদিত আফিমের পরিমান ছিল বর্তমানে আফগানিস্তানের মোট উৎপাদিত আফিমের সমান। যেমন, ১৮৫৮ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর রাজস্ব আয় ছিল ১৫,৩১৭,৩৩৭ পাউন্ড স্টার্লিং, যা’ ভারতবর্ষের মোট আয়ের ৪৮%। একই বছর, আফিমের বিক্রয় থেকে আয় হয়েছিল ৬,৮৬৪,২০৯ পাউন্ড স্টার্লিং। অর্থাৎ আফিম থেকে আয় সেই বছর ব্রিটিশ-ভারত সরকারের মোট আয়ের ২১% এরও বেশি ছিল।
১৭২৯ সালে আফিম চীনে এমন একটি সমস্যা হয়ে দেখা দিলো যে, চীন সম্রাট য়ংজিঙ আফিমের বিক্রয় এবং সেবন নিষিদ্ধ করে দেয়। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞা খুব একটা কাজে আসে নি। ১৭৯৬ সালে সম্রাট জিয়াকিঙ আবারো চীনে আফিম নিষিদ্ধ করে। এবারও বিফলে গেলো সব প্রচেষ্টা। এখানে লক্ষ্যনীয়, চীনে আফিম নিষিদ্ধ হবার পর, চতুর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী কখনও সরাসরি আফিম চীনে সরবরাহের সাথে জড়িত থাকতো না। সরবরাহের কাজটি করা হতো বেসরকারী কিছু এজেন্টের মাধ্যমে। এই এজেন্টেরকে বলা হতো “Country traders”। তারা মূলত আফিম বিক্রি করে দিতো চীনের উপকূলে প্রভাবশালী স্মাগলারদের কাছে। স্মাগলারদের সাথে বিনিময়ের প্রধান মাধ্যম ছিল স্বর্ণ এবং রুপা। Country traders রা আফিম বিক্রির স্বর্ণ ও রুপা পরে তুলে দিতো ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর হাতে। চীনে আফিমের এই সরবরাহকে বাণিজ্য না বলে ইংরেজদের চোরাকারবারী বলাই ভালো।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী বাংলার উত্তরাঞ্চল, বিহার ও বেনারসে পপি চাষীদের কাছ থেকে ফসল কিনে কারখানায় প্রক্রিয়াজাত করে চীনে পাচারের জন্য কলকাতায় নিলাম করতো Country traders দের কাছে। আফিম চীনে স্মাগলিংয়ের পরে তারা অর্জিত স্বর্ণ এবং রুপা কোম্পানীকে পরিশোধ করতো নিলামে ধার্য্যকৃত মূল্য অনুযায়ী। সোজা ভাষায়, ব্রিটিশ সরকার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর মাধ্যমে চীনে আফিম স্মাগলিং করতো। Country traders রা ছিল কোম্পানীর অবৈধ আফিম পাচারের অপারেটর।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর চীনে পাচার করা আফিমের পরিমাণ ১৭২৯ সালের ২০০টি বাক্স (chests) থেকে বেড়ে ১৭৬৭ সনে দাঁড়ায় ১০০০ বাক্স। এক বাক্সে থাকতো ৬৩.৫ কেজি আফিম। কোম্পানীর আফিম স্মাগলিং ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে হতো ৪,০০০ বাক্স প্রতি বছর। পরবর্তীতে ১৮২০ সাল থেকে ১৮৩০ সালের মধ্যে প্রতি বছর চীনে অবৈধভাবে আফিম পাচার হয় গড়ে প্রায় ১০,০০০ বাক্স। ১৮৩৮ সালে এই পরিমাণ বেড়ে হয় ৪০,০০০ বাক্স। ১৮৮০ সালে তা’ বেড়ে দাঁড়ায় ৬০,০০০ তে। এ হিসেব থেকে সহজেই বোঝা যাচ্ছে, এই অবৈধ আফিম পাচার ইংরেজদের কাছে তখন কত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

আফিমের উপর চীন সরকারের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার ফলে চীন ও পশ্চিমা শক্তির মধ্যে দু’টি সশস্ত্র সংঘাত হয়েছিল। “আফিম যুদ্ধ” হিসাবে পরিচিত এই সংঘাতে চীন হেরে গিয়েছিল। ব্রিটিশ সরকার সমর্থিত এই দু’টো যুদ্ধের মধ্য দিয়ে মূলত চীনকে ব্রিটিশ-ভারতীয় আফিমের বাজারে পরিণত করতে বাধ্য করেছিল। ইংরেজরা এই আফিম যুদ্ধ শুরু করে চীনের হংকংয়ে একটি আফিম ব্যবসার ঘাঁটি বানাবার জন্য, যাতে এই লাভজনক ব্যবসাটিকে একচ্ছত্রভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ব্রিটেন এবং চীনের মধ্যে প্রথম আফিম যুদ্ধটি হয়েছিল ১৮৩৯ সাল থেকে ১৮৪২ সাল পর্যন্ত। দ্বিতীয় আফিম যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল ব্রিটিশ-ফ্রান্স জোটের সাথে চীন সরকারের ১৮৫৬ থেকে ১৮৬০ সনে। চীন এই যুদ্ধে হেরে গিয়ে আফিমের উপর সামান্য আমদানি শুল্ক আরোপ করে আফিম বাণিজ্যকে বৈধ করতে বাধ্য হয়েছিল। ততদিনে চীনে প্রতি বছর আফিমের আমদানী দাঁড়ায় গড়ে ৫০,০০০ থেকে ৬০,০০০ বাক্সে। এই বিশাল পরিমান আফিম পরবর্তী তিন দশক ধরে বাড়তে থাকে আরো অধিক পরিমানে। ১৯০৬ সাল থেকে চীনে ব্রিটিশ-ভারতবর্ষের আফিম সরবরাহ হ্রাস পেতে থাকে। আফিম ব্যবসায়ে ব্রিটিশ সরকারের একচ্ছত্র কর্তৃত্ব বজায় থাকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত।
ইংরেজরা ভারতবর্ষে শুধুমাত্র সম্পদ লুন্ঠনই করে নি, অপব্যবহার করেছে ভারতবর্ষের উর্বর জমি, নির্যাতন করেছে কৃষকদের, অন্যায়ভাবে ভারতবর্ষকে ব্যবহার করে আয় করেছে বিপুল অর্থ। এই দু’শো বছরেরও বেশী সময় ধরে ইংরেজদের চীনে অবৈধ আফিম পাচার ভারতবর্ষের হাজার হাজার নিরীহ কৃষককে করেছে নিঃস্ব, অন্যায় ভাবে নিগৃহীত হয়েছে অনেকে, একরের পর একর খাদ্য ফলনের জমিকে পরিণত করেছে বিরানভূমি। সচেতনভাবে ভারতবর্ষকে এভাবে দশকের পর দশক শোষণকে কোনোভাবেই সমর্থন এবং ক্ষমা করা যায় না।

তথ্যসূত্র:
* Soutik Biwas, “How Britain’s opium trade impoverished Indians.” BBC News, 05-09-2019.
* Amy McKenna, “Opium Trade,” Encyclopedia Britannica, May 12, 2020.

শিউলি ফুলের বিষণ্ণতার গল্প

শরতের রাতের সৌন্দর্য বলতে যে ফুলকে বোঝানো হয়, তা হলো শিউলি ফুল। তবে এ সৌন্দর্য আনন্দের নয়, বেদনার প্রতীক। শিউলি ফুলের নাকি সব সময়ই মন খারাপ থাকে। সূর্যের ওপর তার এক রাশ অভিমান। তাই তো রাতের আঁধারেই নিজেকে ফুটিয়ে তুলতে পছন্দ করে সে এবং সূর্য ওঠার আগেই লুকিয়ে ঝরে পড়ে।...

মিশরীয় সিন্ডারেলা

মিশরে তখন ১৬ তম রাজবংশের যুগ। পার্সিয়ান আক্রমনের সম্ভাবনায় দিন গুণছে মিশর। সে সময় মিশরীয় সৈন্যদের তুলনায় গ্রীক সৈন্যদের কদর ছিলো অনেক বেশি। কারণ গ্রীক সৈন্যদের দক্ষতার গল্প প্রচলিত ছিলো বিশ্ব জুড়ে। এমন সময় ফারাও এপ্রিয়েজকে হত্যা করে মিশরের নতুন ফারাও হলেন রাজবংশের...

প্রাচীন সভ্যতায় ঈশ্বরের ধারণার উৎপত্তি ও সংখ্যাগত অবনমন

যে কোন সভ্যতার প্রাচীন ইতিহাস ঘাটলেই আমরা বহু ঈশ্বর বা গডের অস্তিত্বের কথা জানতে পারি। তবে আজকের প্রেক্ষাপটে ঈশ্বর সম্পর্কে এ ধারণা অনেকটাই পাল্টেছে। কেননা বর্তমান বিশ্বে বহু ধর্মমত এখনও বিদ্যমান থাকলেও ঈশ্বরের সংখ্যার বিষয়টি কমে এসেছে। একেশ্বরবাদ কিংবা বহুঈশ্বরবাদী...

হিন্দু দেব-দেবীর ধারণা প্রাচীন মধ্য এশীয় বিশ্বাসেরই প্রতিরূপ নয় তো?

সিংহবাহনের ওপর এক হাতে চাঁদ ও এক হাতে সূর্য নিয়ে চার হাতবিশিষ্ট এক দেবী যুদ্ধবাজ ভঙ্গিমায় আসীন নিজের সন্তানদের প্রতিরক্ষার জন্য। খুব পরিচিত লাগছে তাই না? নিশ্চয়ই দেবী দুর্গার সাথে সাদৃশ্য খুঁজে পাচ্ছেন। কিন্তু এ তো দুর্গা নয়, ব্যাক্ট্রিয়ান মাতৃদেবী ‘নানায়াহ’ বা ‘ননা’...

মহাবীর কর্ণের অন্তিম যাত্রা

সূর্যদেব অস্তে চলে যাচ্ছেন। গোধূলিবেলার লালচে আলোতে আমি পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি আমার এই জন্মের শত্রুকে। তার গান্ডিব ধরা উদ্ধত হাতে চকচক করছে অঞ্জলিক বাণ, যা আমার মস্তক ছেদ করার জন্য একটু পরেই ছুটে আসবে।পান্ডব বীর অর্জুন, যে আমার চরম শত্রু আবার আমার সহদর কনিষ্ঠ ভ্রাতা।ওই...

মেহেদী হাসান খান

মেহেদী হাসান খান ১৮ বছর বয়সের মেহেদী হাসান খান ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ডাক্তারি পড়তে ভর্তি হলেন,কিন্তু পড়াশোনায় তার মন নাই! কিন্তু কেন? তিনি নাওয়া- খাওয়া, পড়াশোনা বাদ দিয়ে একটা ছোট্ট কম্পিউটার সম্বল করে বাংলা ভাষায় লেখার জন্য লড়াই শুরু করলেন। একটাই জেদ, বাংলা...

ঢাকার হারিয়ে যাওয়া সংগ্রহশালা- বলধা জাদুঘর

১৯২৫ সালের ঢাকা; ফুলবাড়িয়া রেলস্টেশন থেকে বেরিয়ে রেললাইন ধরে নারায়ণগঞ্জের দিকে কিছুদূর এগুলে উয়ারি। উয়ারির শেষ সীমানায় এক সরু রাস্তা চলে দিয়েছে নারিন্দার দিকে। সরু সেই রাস্তার একপাশে বহু পুরাতন খ্রিস্টান কবরখানা আর তার বিপরীতে উঁচু পাচিলঘেরা কম্পাউন্ডের ভেতর দোতলা...

সুন্দরবন ধ্বংসের ইতিবৃত্ত

ব্রাজিলের চিরসবুজ বিস্তৃত এমাজন (Amazon Rainforest) গহীন বনাঞ্চলকে বলা হয় বিশ্বের ফুসফুস, তেমনি সুন্দরবনও বাংলাদেশের শ্বাস-প্রশ্বাসের এক অঙ্গ। এই ঘন বনাঞ্চল বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগেরও এক প্রতিরোধ। সুন্দরবনকে ঘিরে আশেপাশের জনপদে ছড়িয়ে আছে অনেক পৌরাণিক কাহিনী। এমনি...

ঢাকার এক বিস্মৃত চিকিৎসক

দিনটি ছিল ১৫ই নভেম্বর ১৮৬৪ সাল, মঙ্গলবার। সন্ধ্যা নামতে আর বেশি দেরি নেই। নারিন্দার খ্রিস্টান কবরস্থানের দীর্ঘ ঘাসের ঝোপে অবশ্য তখনই অন্ধকার নেমে এসেছে। সন্ধ্যা হলে এই এলাকায় সহজে কেউ পা বাড়ায় না। কিন্তু সেদিন পুরো এলাকা লোকে লোকারণ্য- আছে ইংরেজ, আরমেনিয়, দেশী সব...

ঢাকার ঐতিহাসিক তারা মসজিদ

পূর্বকথাঃ উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ের কথা। আরমানিটোলার মহল্লা আলে আবু সাঈদে তখন এক প্রভাবশালী জমিদারের বাস, নাম- মীর্জা গোলাম পীর। দাদা মীর আবু সাঈদ  ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রমরমা যুগে তুরস্ক থেকে এসে ঢাকায় থিতু হয়েছিলেন। মীর্জা গোলাম পীরের আরেক নাম মীর্জা আহমেদ জান। তবে...