কুষান সাম্রাজ্যের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং শ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন প্রথম কনিষ্ক।খ্রিস্টীয় প্রথম বা দ্বিতীয় শতাব্দীতে তিনি রাজত্ব করেছিলেন।এশিয়ার অনেকগুলি দেশ ছিলো তাঁর অধীনে, ভারতবর্ষের প্রায় দাক্ষিণাত্য পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিলো তাঁর শাষন।গান্ধার এবং কাশ্মীর থেকে বেনারস পর্যন্ত এক বিস্তীর্ণ অঞ্চল তাঁর সাম্রাজ্যভুক্ত ছিল। কণিষ্কের আমলেই কুষাণ সাম্রাজ্য সর্বচেয়ে বেশি বিস্তার লাভ করে, এই সাম্রাজ্য  উত্তর ভারতের ইতিহাসে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।

সম্রাট কনিষ্ক রাজনৈতিক, সামরিক এবং আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রে বিখ্যাত ছিলেন।তিনি ছিলেন কুষান সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কুজুল কদফিসেসের পরবর্তী প্রজন্ম।পুরুষপুর,কপিশা ও মথুরা ছিল তাঁর রাজ্যের রাজধানী।

তাঁর রাজত্ব তামিম দ্রোনীর তুরফান অঞ্চল থেকে গাংগেয় সমতলভূমির পাটলিপুত্র পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।তিনি বৌদ্ধ ধর্মের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।তাঁর রাজত্ব কালে বৌদ্ধধর্ম গান্ধার থেকে চীন পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।

অন্যান্য  দেশের রাজারা তাঁকে খুব ভয় পেত, বিভিন্ন দেশের রাজপুত্রদের সম্রাট কনিষ্ক নিজের রাজ্যে নজরবন্দী করে রাখতেন বলে শোনা যায়।সে রাজ্যে শুধু যে বিশাল সৈন্যবাহিনী ছিল তাইনা, সম্রাট কনিষ্কের নিজেরও অনেক অলৌকিক ক্ষমতা ছিলো বলে তখনকার লোকেরা বিশ্বাস করতো।

পন্ডিত সিলভ্যাঁ লেভি তাঁর বইয়ে কনিষ্ক সম্পর্কে একটা উপাখ্যানের উল্লেখ করেছেন।আলবেরুনি ও তো প্রায় একই রকম একটা কাহিনী বলেছেন তাঁর তাহলিক-ই- হিন্দ বইয়ে।

আলবেরুনি’র কাহিনীতে সম্রাট কনিষ্কের অনেক অলৌকিক শক্তির পরিচয় পাওয়া যায়। তাঁর বইয়ে কনিষ্ক কে বলা হয়েছে পেশোয়ারের রাজা আর সাতবাহনের জায়গায় আছে  কনৌজের রাজা। এতে দেখা যায় কনিষ্ক সাতবাহনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হলে, সাতবাহন রাজার এক বিশ্বস্ত মন্ত্রী কনিষ্কের হাত থেকে রাজাকে বাঁচাবার জন্য লুকিয়ে রেখে বিশ্বাসঘাতকের ভান করে কনিষ্কের সেনাবাহিনীকে ভুলিয়ে মরুভুমির মধ্যে নিয়ে যায়।

সেখানে গিয়ে পানির অভাবে সৈন্যরা হাহাকার করতে লাগলো, যুদ্ধে হেরে যাবার মতো অবস্থা।

তখন মহাপরাক্রান্ত সম্রাট কনিষ্ক সেই মন্ত্রীকে ডেকে বললেন, ‘ ‘তোমার ধারনা আমি শুধু সৈন্যবাহিনীর সাহায্যে এত বড় সাম্রাজ্য গড়েছি? এইবার আমার নিজের ক্ষমতা দেখো!’’

এই বলে সম্রাট কনিষ্ক তখন প্রকাণ্ড এক বর্শা নিয়ে সাঙ্ঘাতিক জোরে সেই মরুভূমির মধ্যে ঢুকিয়ে দিলেন। সঙ্গে সঙ্গে সেখান থেকে ঝরনার পানির ধারা বেরিয়ে এলো। তিনি মন্ত্রীকে বললেন, ‘’ এবার তোমার রাজার কাছে যাও, গিয়ে দেখে এসো রাজা কেমন আছে।মন্ত্রী গিয়ে দেখলেন, লুকিয়ে থাকা অবস্থাতেই কনৌজের রাজা সাতবাহন হাত- পা কেটে টুকরো হয়ে পড়ে আছে।

তিনি যে আগেও এরকম অনেক অলৌকিক ঘটনা ঘটিয়েছেন, তারও উল্লেখ আছে এই বইয়ে। তখনকার দিনের লোকের ধারনা হয়ে গিয়েছিল যে, কনিষ্ক শুধু সৈন্যবাহিনীর সাহায্যে যুদ্ধে জিতেন না । তাঁর মাথাটাই সব— অদ্ভুত সব অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন তিনি।

সম্রাট কনিষ্ক বেঁচে থাকতেই তাঁর মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন,মূর্তির মাথার ভেতরে তাঁর নির্দেশে তাঁর সমস্ত কির্তীকাহিনী খোদাই করে রাখা হয়। সাতবাহন মারা যাবার পর তাঁর বংশের পুরুষেরা কনিষ্ককে হত্যা করতে না পেরে তাঁর মূর্তির মাথা ভেঙ্গে নিয়ে যায়। কনিষ্কের যে দুটি মূর্তি পাওয়া গিয়েছে, এইজন্যই সেগুলি মাথাবিহীন।

হিউয়েন সাং-এর বিবরণ থেকে জানা যায় যে তিনি এক বিশাল সাম্রাজ্যের অধিপতি ছিলেন। শুধু ভারতেই নয় ভারতের বাইরে চিনের সঙ্গে যুদ্ধ করে কাশগড়, খোটান, ইয়ারখন্দ অধিকার করেন। তবে চিন সেনাপতি প্যান চাও-এর কাছে তিনি একবার পরাজিত হন। এই অপমানের প্রতিশোধ নেবার জন্য তিনি চিন আক্রমণ করেন। এবং সন্ধির জামিন হিসেবে সম্রাটের (হো-তি) এক পুত্রকে নিজের দরবারে এনে রেখেছিলেন। ভারতের গান্ধার ও কাশ্মীর থেকে কোঙ্কণ ও বারাণসী পর্যন্ত এক বিশাল অঞ্চলের তিনি অধীশ্বর ছিলেন।

বিহার ও বাংলাও তাঁর অধীনে ছিল। এই সমস্ত অঞ্চলে তাঁর নামাঙ্কিত মুদ্রা পাওয়া গেছে।পুরুষপুর বর্তমান পেশোয়ার তাঁর রাজধানী ছিল। কাশ্মীরে তিনি কনিষ্কপুর নামে একটি শহর প্রতিষ্ঠা করেন এবং পেশওয়ারে একটি (পুরুষ পুরে) স্থায়ী প্রাসাদ গড়ে তুলেছিলেন।

কণিষ্কের সিংহাসন আরোহণের তারিখ সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ আছে, তবে বেশির ভাগ পণ্ডিতই মনে করেন ৭৮ খ্রিস্টাব্দে “শকাব্দ” নামে যে বর্ষগণনা শুরু হয়, কণিষ্ক ছিলেন তার প্রবর্তক । এই সূত্র অনুসারে কণিষ্ক ৭৮ খ্রিস্টাব্দেই সিংহাসনে আরোহণ করেন।

সম্রাট কণিষ্ক অত্যন্ত জনদরদী রাজা ছিলেন। জনসাধারণের কল্যাণ সাধনে তিনি সবসময় সচেষ্ট ছিলেন। তাঁর আমলে তিনি তাঁর সাম্রাজ্যে স্বর্ণমুদ্রার প্রচলন করেছিলেন। তক্ষশীলা দলিল থেকে জানা যায় যে, জনকল্যাণমূলক কর্মকান্ডের স্বীকৃতি স্বরূপ তাঁকে ‘দেবপুত্র’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। তিনি ব্যবসা বাণিজ্য ও কৃষির সম্প্রসারণেও উদ্যোগী ছিলেন।

কুষাণদের বিশাল সাম্রাজ্যে বহু ভাষাভাষী জাতিগোষ্ঠীর আবাসভূমি ছিল। তাদের সহযোগিতায় শিল্প, বাণিজ্য ও কৃষ্টি-সংস্কৃতির উন্নতি অনেক সহজ হয়েছিল।তারা উপমহাদেশের বাইরে থেকে অনেক ভাস্কর, স্থপতি ও অন্যান্য শিল্পী এদেশে আনিয়েছিলেন। এদের সংস্রবে ভারতীয় শিল্পে তিনটি মুখ্য ধারার সৃষ্টি হয়েছিলো, মধ্য এশীয়, গান্ধার ও মথুরা।গান্ধারে প্রধানত গ্রীক প্রভাবে ভারতীয় ভাস্কর্য তৈরি হতে দেখা যায়।

বুদ্ধমূর্তিতে এই প্রভাবের জন্য কোঁকড়া চুল, মুখে গোঁফ, কাপড়ের পরতে-পরতে ভাঁজ- এই প্রভাব মথুরা শিল্পরীতিতেও দেখা যায়।লাল বেলে-পাথরে বুদ্ধ ছাড়াও মহাবীরের মূর্তিও এখানে গড়া হতো।

কণিষ্ক বহু মঠ ও চৈত্য তৈরি করেছিলেন। তাঁরই চেষ্টায় চিন, জাপান, কোরিয়ায় বৌদ্ধধর্মের বিস্তার ঘটে। হীনযান ও মহাযান এই দুই বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে মতভেদ দূর করার জন্য তিনি চতুর্থ বৌদ্ধসঙ্গীতির আহ্বান করেন। বসুমিত্র, অশ্বঘোষ, নাগার্জুন এই অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। প্রায় তিনমাস চলেছিল এই অধিবেশন। এই দীর্ঘ সম্মেলনে সঙ্কলিত ত্রিপিটকের ব্যাখ্যা করেন বসুমিত্র। এই ব্যাখ্যা মহাবিভাষা নামে পরিচিত। কাশ্মীর, জলন্ধর অথবা কান্দাহারে এটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এটিই ছিল শেষ বৌদ্ধ সম্মেলন। এটি কণিষ্কের রাজত্বকালে অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

বৌদ্ধরা তাঁকে দেবতার মতো সম্মান করতো।বৌদ্ধধর্মের প্রচার প্রসারে সম্রাট কণিষ্ক বিশেষ ভূমিকা রেখেছিলেন। এ কারণে তাঁর সুনাম ও সুখ্যাতি সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছিল। তিনি বৌদ্ধধর্মের পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্য দিয়ে পুরা  রাজ্যে মানবীয় মূল্যবোধকে জাগাতে চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর কুলগুরু ছিলেন সংঘরক্ষ। তিনিও সুপণ্ডিত ছিলেন।

সম্রাট অশোকের মতো সম্রাট কণিষ্কও বৌদ্ধধর্ম প্রচারের মধ্য দিয়ে প্রত্যেকের মানবিক মূল্যবোধকে তুলে ধরেন এবং ভারতবর্ষের সর্বশ্রেষ্ঠ নরপতি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি প্রথমে রাজ্য বিস্তারে মনযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে সেই রাষ্ট্রনীতি বাদ দিয়ে তিনি ধর্মনীতি গ্রহণ করেছিলেন। কারণ তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, রাজ্য বিস্তারের চেয়ে ধর্মনীতি প্রতিষ্ঠাই করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি পাটলিপুত্র জয় করে ফিরে আসার সময় বুদ্ধের কাঠের মূর্তি, ভিক্ষাপাত্র ও মহাকবি অশ্বঘোষকে সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন। পরে তিনি সে বুদ্ধমূর্তি ও ভিক্ষাপাত্র রাজধানী পুরুষপুরে প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি অশ্বঘোষকে পুরুষপুর বিহারে থেকে যাবার জন্য অনুরোধ করেন। এই বিহারে থাকার সময় অশ্বঘোষের খুবই সুখ্যাতি হয়েছিলো।তিনি অনেক গুণের অধিকারী ছিলেন। তিনি মহাকবি, দার্শনিক ও প্রথিতযশা বৌদ্ধ ভিক্ষু ছিলেন।

সম্রাট কণিষ্ক পাটালিপুত্র জয়ের স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য পুরুষপুর স্তূপ ও বিহার নির্মাণ করেছিলেন। সম্রাট অশোকের ‘দেবানামপিয়’ অ্যাখ্যা নিয়ে পালি সাহিত্যে যেমন নানা কাহিনী প্রচলিত আছে, সেরকম সম্রাট কণিষ্কেরও ‘দেবপুত্র’ উপাধি নিয়ে অনেক কথা ও কাহিনী তৈরি হয়।

সাহিত্য ও সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক হিসেবে কণিষ্ক উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব দাবি করতে পারেন । বুদ্ধচরিত রচয়িতা অশ্বঘোষ, বৌদ্ধ দার্শনিক নাগার্জুন, বৌদ্ধসাহিত্যিক বসুমিত্র, স্বনামধন্য চিকিৎসক চরক, স্থপতি এজেসিলাস রাজনীতিবিদ মাথর প্রভৃতি মনীষীরা তাঁর রাজত্ব কালেই ছিলেন। তাঁরই সময়ে সারনাথ, মথুরা, গান্ধার ও অমরাবতীতে চারটি ভিন্ন শিল্পরীতির আবির্ভাব ঘটেছিল।

তিনি শিল্প ও সাহিত্যের অনুরাগী ছিলেন। কুষাণদের অন্যতম অবদান হল গান্ধার শিল্প।  গ্রিক, রোম এবং ভারতীয় শিল্পরীতির সংমিশ্রণের ফলে এই শিল্পকলার উদ্ভব ঘটে। কণিষ্কের সময়েই এই রীতির উদ্ভব ঘটে। এই যুগের বুদ্ধমূর্তিগুলো দেখলে গান্ধার শিল্প সম্পর্কে মোটামুটি একটা ধারণা করা যায়। রাজধানী পুরুষপুরে তিনি বুদ্ধদেবের দেহাবশেষের ওপর এক বিশাল চৈত্য নির্মাণ করান যার শিল্প সুষমা ছিল অপূর্ব। এক গ্রিক স্থপতি এজিসিলাওস-এর পর্যবেক্ষণে এই চৈত্য নির্মিত হয়েছিল। মথুরা নগরীর শোভাও তাঁর শিল্পরুচির পরিচয় দেয়। তিনি অন্যান্য দেবদেবীর প্রতিও শ্রদ্ধাশীল ছিলেন।

তাঁর সাহিত্যের প্রতিও গভীর অনুরাগ ছিল। তাঁর রাজসভায় বহু গুণীজনের সমাবেশ লক্ষ্য করা যায়। দার্শনিক বসুমিত্র, শাস্ত্রকার নাগার্জুন, দার্শনিক বসুবন্ধু, অশ্বঘোষ তাঁর সভা অলঙ্কৃত করেছিলেন। ‘বুদ্ধচরিত’ অশ্বঘোষের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা। সংস্কৃত সাহিত্যের অন্যতম প্রধান লেখক ছিলেন তিনি। ভারতীয় আয়ুর্বেদশাস্ত্রের রচয়িতা মহাঋষি চরক তাঁর চিকিৎসক ছিলেন। ‘চরক-সংহিতা’ এবং ‘সুশ্রুত-সংহিতা’ এই যুগেই সংকলিত হয়। অস্ত্রোপচারের পথিকৃৎ ছিলেন সুশ্রুত। এই যুগে তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতি বেড়েছিলো।

কণিষ্কের মৃত্যুর পর কুষাণদের ক্ষমতা আস্তে আস্তে লোপ পেতে থাকে। তিনি ২৩ বছর রাজত্ব করেছিলেন।  তাঁর নিজেরই কিছু সৈনিক তাঁকে হত্যা করেছিল। পরবর্তী সম্রাটরা হলেন বাসিষ্ক, হুবিষ্ক এবং বাসুদেব। বাসুদেবই এই বংশের শেষ স্মরণীয় শাসক। উত্তর ভারতে নাগ বংশের আবির্ভাবের পর কুষাণদের ক্ষমতা বিলুপ্ত হয়ে পড়ে।

১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দে আফগানস্থানের রবাতক নামের একটি জায়গা থেকে আবিষ্কৃত ব্যাক্ট্রীয় ভাষায় একটি শিলালিপি কুষান সম্রাট কণিষ্ক সম্বন্ধে  কিছু তথ্য পাওয়া যায়।

এই লিপির শুরুতেই লেখা রয়েছে যে, নানা দেবতার ইচ্ছেয় কণিষ্ক একটি নতুন কালপঞ্জীর সূচনা করেন। কণিষ্ক গ্রীক ভাষা ত্যাগ করে ব্যক্ট্রিয় ভাষা প্রবর্তন করেন। এই লিপি অনুসারে, উজ্জয়িনী, সাকেত, কৌশাম্বী, পাটলিপুত্র ও শ্রী চম্পা নগরী পর্যন্ত তাঁর সাম্রাজ্য বিস্তৃত ছিলো।

এই লিপির শেষে কণিষ্কের পূর্বপুরুষদের নাম পাওয়া যায়। এই লিপি থেকেই জানা যায় যে, কণিষ্কের প্রপিতামহ ছিলেন কুজুল কদফিসেস, পিতামহ ছিলেন ভীম তক্তো এবং পিতা ছিলেন ভীম কদফিসেস। বি.এন. মুখার্জি এই লিপির একটি অনুবাদ করেন।

মাটি খনন করে তাঁর মাথা ছাড়া মূর্তি উদ্ধার করা হয়, যাতে তাঁর নাম লেখা ছিল। ।তিনি দেখতে কেমন ছিলেন সেটা জানা যায়নি।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর কিশোর উপন্যাস ‘কাকাবাবু’সিরিজের ‘ভয়ঙ্কর সুন্দর’গল্পে আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে চমৎকার ভাবে সম্রাট কনিষ্কের মাথাবিহীন মুর্তির ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করেছেন।

তথ্যসূত্র

– ভয়ঙ্কর সুন্দর লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

– ইন্টারনেট

– উইকিপিডিয়া

– ছবি ইন্টারনেট

শিউলি ফুলের বিষণ্ণতার গল্প

শরতের রাতের সৌন্দর্য বলতে যে ফুলকে বোঝানো হয়, তা হলো শিউলি ফুল। তবে এ সৌন্দর্য আনন্দের নয়, বেদনার প্রতীক। শিউলি ফুলের নাকি সব সময়ই মন খারাপ থাকে। সূর্যের ওপর তার এক রাশ অভিমান। তাই তো রাতের আঁধারেই নিজেকে ফুটিয়ে তুলতে পছন্দ করে সে এবং সূর্য ওঠার আগেই লুকিয়ে ঝরে পড়ে।...

মিশরীয় সিন্ডারেলা

মিশরে তখন ১৬ তম রাজবংশের যুগ। পার্সিয়ান আক্রমনের সম্ভাবনায় দিন গুণছে মিশর। সে সময় মিশরীয় সৈন্যদের তুলনায় গ্রীক সৈন্যদের কদর ছিলো অনেক বেশি। কারণ গ্রীক সৈন্যদের দক্ষতার গল্প প্রচলিত ছিলো বিশ্ব জুড়ে। এমন সময় ফারাও এপ্রিয়েজকে হত্যা করে মিশরের নতুন ফারাও হলেন রাজবংশের...

প্রাচীন সভ্যতায় ঈশ্বরের ধারণার উৎপত্তি ও সংখ্যাগত অবনমন

যে কোন সভ্যতার প্রাচীন ইতিহাস ঘাটলেই আমরা বহু ঈশ্বর বা গডের অস্তিত্বের কথা জানতে পারি। তবে আজকের প্রেক্ষাপটে ঈশ্বর সম্পর্কে এ ধারণা অনেকটাই পাল্টেছে। কেননা বর্তমান বিশ্বে বহু ধর্মমত এখনও বিদ্যমান থাকলেও ঈশ্বরের সংখ্যার বিষয়টি কমে এসেছে। একেশ্বরবাদ কিংবা বহুঈশ্বরবাদী...

হিন্দু দেব-দেবীর ধারণা প্রাচীন মধ্য এশীয় বিশ্বাসেরই প্রতিরূপ নয় তো?

সিংহবাহনের ওপর এক হাতে চাঁদ ও এক হাতে সূর্য নিয়ে চার হাতবিশিষ্ট এক দেবী যুদ্ধবাজ ভঙ্গিমায় আসীন নিজের সন্তানদের প্রতিরক্ষার জন্য। খুব পরিচিত লাগছে তাই না? নিশ্চয়ই দেবী দুর্গার সাথে সাদৃশ্য খুঁজে পাচ্ছেন। কিন্তু এ তো দুর্গা নয়, ব্যাক্ট্রিয়ান মাতৃদেবী ‘নানায়াহ’ বা ‘ননা’...

মহাবীর কর্ণের অন্তিম যাত্রা

সূর্যদেব অস্তে চলে যাচ্ছেন। গোধূলিবেলার লালচে আলোতে আমি পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি আমার এই জন্মের শত্রুকে। তার গান্ডিব ধরা উদ্ধত হাতে চকচক করছে অঞ্জলিক বাণ, যা আমার মস্তক ছেদ করার জন্য একটু পরেই ছুটে আসবে।পান্ডব বীর অর্জুন, যে আমার চরম শত্রু আবার আমার সহদর কনিষ্ঠ ভ্রাতা।ওই...

মেহেদী হাসান খান

মেহেদী হাসান খান ১৮ বছর বয়সের মেহেদী হাসান খান ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ডাক্তারি পড়তে ভর্তি হলেন,কিন্তু পড়াশোনায় তার মন নাই! কিন্তু কেন? তিনি নাওয়া- খাওয়া, পড়াশোনা বাদ দিয়ে একটা ছোট্ট কম্পিউটার সম্বল করে বাংলা ভাষায় লেখার জন্য লড়াই শুরু করলেন। একটাই জেদ, বাংলা...

ঢাকার হারিয়ে যাওয়া সংগ্রহশালা- বলধা জাদুঘর

১৯২৫ সালের ঢাকা; ফুলবাড়িয়া রেলস্টেশন থেকে বেরিয়ে রেললাইন ধরে নারায়ণগঞ্জের দিকে কিছুদূর এগুলে উয়ারি। উয়ারির শেষ সীমানায় এক সরু রাস্তা চলে দিয়েছে নারিন্দার দিকে। সরু সেই রাস্তার একপাশে বহু পুরাতন খ্রিস্টান কবরখানা আর তার বিপরীতে উঁচু পাচিলঘেরা কম্পাউন্ডের ভেতর দোতলা...

সুন্দরবন ধ্বংসের ইতিবৃত্ত

ব্রাজিলের চিরসবুজ বিস্তৃত এমাজন (Amazon Rainforest) গহীন বনাঞ্চলকে বলা হয় বিশ্বের ফুসফুস, তেমনি সুন্দরবনও বাংলাদেশের শ্বাস-প্রশ্বাসের এক অঙ্গ। এই ঘন বনাঞ্চল বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগেরও এক প্রতিরোধ। সুন্দরবনকে ঘিরে আশেপাশের জনপদে ছড়িয়ে আছে অনেক পৌরাণিক কাহিনী। এমনি...

ঢাকার এক বিস্মৃত চিকিৎসক

দিনটি ছিল ১৫ই নভেম্বর ১৮৬৪ সাল, মঙ্গলবার। সন্ধ্যা নামতে আর বেশি দেরি নেই। নারিন্দার খ্রিস্টান কবরস্থানের দীর্ঘ ঘাসের ঝোপে অবশ্য তখনই অন্ধকার নেমে এসেছে। সন্ধ্যা হলে এই এলাকায় সহজে কেউ পা বাড়ায় না। কিন্তু সেদিন পুরো এলাকা লোকে লোকারণ্য- আছে ইংরেজ, আরমেনিয়, দেশী সব...

ঢাকার ঐতিহাসিক তারা মসজিদ

পূর্বকথাঃ উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ের কথা। আরমানিটোলার মহল্লা আলে আবু সাঈদে তখন এক প্রভাবশালী জমিদারের বাস, নাম- মীর্জা গোলাম পীর। দাদা মীর আবু সাঈদ  ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রমরমা যুগে তুরস্ক থেকে এসে ঢাকায় থিতু হয়েছিলেন। মীর্জা গোলাম পীরের আরেক নাম মীর্জা আহমেদ জান। তবে...